শিক্ষার গুরুত্ব

 ইকরা (পড়)!মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টা তার সবচেয়ে প্রিয় ফেরেশতা দিয়ে সবচেয়ে প্রিয় রাসুলের কাছে সর্বপ্রথম এই শব্দটি নাজিল করেন। অতএব এ থেকে বুঝা যায় শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু? 

শিক্ষা আমাদের আত্ম গঠনের মাধ্যম। শিক্ষা ছাড়া কোনো মানুষ নিজেকে আদর্শবান করতে পারে না।যার ফলে আমরা দেখি অনেক গরীব মানুষের ছেলে বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। কারণ তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারে না, বিভিন্ন বই কিনে দিতে পারে না। যার কারণে তারা খারাপ হয়ে যায়।

মহানবী (স.) এর যুগে মানুষরা এতো জাহেল ছিল কেন? খুন খারাবি, চুরি, ডাকাতি,হত্যা,লুন্ঠন তাদের নিত্য সঙ্গী ছিল কেন? কারণ সে সময়ে মানুষের মধ্যে শিক্ষা ছিল না। যার কারণে তারা ছিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কুলাঙ্গার। একটা সহজ উদাহরণ দিলে আপনারা বুঝবেন আমরিকাসহ অন্যান্য উন্নত দেশ এতো সভ্য কেন? আর অন্যান্য অনুন্নত দেশে এতো খারাপ কাজ ছড়িয়ে আছে কেন? কারণ উন্নত দেশ গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় তাদের মধ্যে সভ্যতাও উন্নত। যার কারণে তারা ভালো মানুষ হওয়ার স্বাদটা পায়। আর অন্যদিকে অনুন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় তাদের মধ্যে সভ্যতাও অনুন্নত। 

আবার অল্প শিক্ষিত হলেও চলবে না। কারণ আপনি আপনার সন্তানকে ৫ম,৬ষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করলেন তারপর আর করালেন না তাহলে কী হয়? মানুষের মধ্যে খারাপ কাজ করার চিন্তা আসে আসলে তারপর থেকে আর আপনি তারপর থেকে আপনার ছেলেকে আর শিক্ষা দীক্ষা দিলেন না। তাহলে তো আপনার ছেলে খারাপ হবেই। তাই আপনার ছেলেকে যদি আপনি সভ্য বানাতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই আপনার ছেলেকে সম্পূর্ণ পড়ালেখা করাতে হবে।

ভবিষ্যৎ গড়তে পড়ালেখার বিকল্প আর কিছু নেই।পড়ালেখা ছাড়া আপনাকে কোনো চাকরি, কাজ দিবে না। পরবর্তী প্রজন্মে আপনাকে অন্যের বাসায় কাজ করতে হলেও পড়ালেখা করতে হবে অন্তত ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত। আসছে সামনে এমন দিন। তাছাড়া  অনলাইন বলতে যেকোনো জায়গায় কাজ করতে চান তাহলে সেখানে আপনাকে ইংরেজি অবশ্যই পারা লাগবে। আর সরকারী-বেসরকারী চাকরীর কথা তো বাদ দিলাম। পড়ালেখা ছাড়া আপনি নড়তে চড়তেও পারবেন না। এক কথায় পড়ালেখা ছাড়া আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

গরীবরা কিন্তু দূর্নীতি করতে পারে না। দূর্নীতি কিন্তু শিক্ষিতরাই করে তাহলে তারা কেন করে? তাদের এমন হওয়ার কারণ তারা অর্ধেক শিক্ষা অর্জন করেছে আর অর্ধেক অর্জন করনি। পড়ালেখা শুধু একাডেমিক অধ্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা পূর্ণতা অর্জন করে একাডেমিক ও সাহিত্য উভয় অর্জনের মাধ্যমে। তাছাড়া তারা একাডেমিক অধ্যয়ন করে শুধু ক্লাসে ফাস্টবয় হওয়ার জন্য। তার জন্য তারা সভ্য হতে পারে না।

এদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সরকার এবং পরিবারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এদেশে নামে আইন আছে কিন্তু কাজে আইন নাই। সরকারকে অবশ্যই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। তানাহলে এদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হতে পারে। তাছাড়া এখানে পরিবারেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তারা সন্তানদের আধা ক্লাস পর্যন্ত পড়ায় আর পড়ায় না তারপর তারা তাদের সন্তানদের বিভিন কাজে লাগিয়ে দেয়। যার কারণে সন্তানরা সেখানের অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে থাকতে থাকতে খারাপ হয়ে যায়। আচ্ছা আমার একটি প্রশ্ন আপনাদের থেকে কাজ বড় নাকি আপনার সন্তানদের সভ্য করে তুলা বড়। আবার অনেকে নিরুপায় কারণ তারা তাদের খাবারের যোগান দিতে পারে না বিদায় তাদের সন্তানদের কাজে লাগিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই তাদের অনুদান দিতে হবে যাতে তারা তাদের মৌলিক অধিকারের সবকিছু পায় আর যাতে তাদের সন্তাদের কোনো কাজে না দেয়। এভাবে আমরা আমাদের জাতিটাকে রক্ষা করতে পারি।




আমার লেখা আরো মোটিভেশনাল পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন। 

ধন্যবাদ

Comments

Popular posts from this blog

Set goals in life

পোশাকের আদব

ইবাদতের সৌন্দর্য